রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০৯:৪৯
ইমাম হাসান আসকারি (আ.)-এর ‘গোপন সংগ্রাম’-এর কৌশল গায়েবতের যুগের পথ প্রস্তুত করেছিল

সাভেহর ফাতিমা যাহরা (সা.) ইলমি মাদরাসার পরিচালক জাহরা মাদানি বলেছেন, ইমাম হাসান আসকারি (আ.)-এর যুগে অনুসৃত ‘গোপন সংগ্রাম’-এর কৌশল শিয়া সমাজের সাংগঠনিক কাঠামো রক্ষা করার পাশাপাশি দ্বাদশ ইমাম হযরত মাহদি (আ.)-এর গায়েবতের যুগের জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করেছিল।

হাওজা নিউজ এজেন্সি’র আরাক প্রতিনিধির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইমাম হাদি (আ.)-এর শাহাদাতের পর ২৫৪ হিজরি সনে ইমাম হাসান আসকারি (আ.) ইমামতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২৬০ হিজরি পর্যন্ত প্রায় ছয় বছর শিয়াদের নেতৃত্ব দেন।

তিনি বলেন, ইমাম হাসান আসকারি (আ.)-এর ইমামতের সময় আব্বাসীয় শাসকদের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর ব্যাপক রাজনৈতিক চাপ ছিল। বিশেষ করে আব্বাসীয় খলিফা মুতামিদ তাঁকে সামাররার ‘আসকার’ এলাকায় কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখেন।

জাহরা মাদানি বলেন, ইমাম (আ.) একাধিকবার কারাবন্দি হন এবং তাঁর অনুসারীদের সঙ্গে যোগাযোগ কঠোরভাবে সীমিত করে দেওয়া হয়। এমনকি আব্বাসীয় শাসকগোষ্ঠী ইমামের বংশধারা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে তাঁর বিবাহের ক্ষেত্রেও বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

‘ওকালাত’ ব্যবস্থা শক্তিশালী করেন ইমাম
তিনি বলেন, কঠোর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইমাম হাসান আসকারি (আ.) ‘ওকালাত’ ব্যবস্থা আরও সুসংগঠিত করেন। তিনি কুফা, বাগদাদ, কোম, নিশাপুর, ইয়েমেন ও আজারবাইজানসহ বিভিন্ন শিয়া অধ্যুষিত অঞ্চলে প্রতিনিধি নিয়োগ করেন।

এসব প্রতিনিধি শরয়ি অর্থ ও ধর্মীয় অনুদান সংগ্রহের পাশাপাশি ইমামের নির্দেশনা শিয়াদের কাছে পৌঁছে দিতেন। ইমামের বিশিষ্ট প্রতিনিধি উসমান ইবনে সাঈদ নিরাপত্তার স্বার্থে তেলের পাত্রে ধর্মীয় অর্থ লুকিয়ে তা বহন করতেন, যাতে তা খলিফার কর্মচারীদের হাতে না পড়ে।

তিনি আরও বলেন, ইমাম (আ.) চিঠিপত্রের মাধ্যমে শিয়াদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন, তাদের বিভিন্ন আকিদাগত প্রশ্নের উত্তর দিতেন এবং ভ্রান্ত চিন্তাধারার সংশোধন করতেন। তিনি বিভিন্ন অঞ্চলে আকিদাগত সংশয় ও প্রশ্নের জবাবে একাধিক চিঠি পাঠিয়েছেন। একই সঙ্গে ওয়াকিফিয়া ও গুলাতের মতো বিচ্যুত ধারার বিরুদ্ধেও সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেন।

তিনি বলেন, সে সময় শিয়া সমাজের মধ্যে সুফিবাদ ও বিভিন্ন উগ্র চিন্তাধারারও বিস্তার ঘটেছিল। ইমাম (আ.) জ্ঞানভিত্তিক দিকনির্দেশনা ও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে অনুসারীদের সঠিক আকিদাগত পথ স্পষ্ট করে দেন।

গায়েবতের যুগের জন্য শিয়াদের প্রস্তুত করেন
জাহরা মাদানি বলেন, ইমাম হাসান আসকারি (আ.)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশল ছিল তাঁর পুত্র হযরত ইমাম মাহদি (আ.)-এর গায়েবতের জন্য শিয়াদের প্রস্তুত করা। তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ সাহাবিদের জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তাঁর পুত্রই প্রতিশ্রুত মাহদি এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তাঁকে সাধারণ মানুষের দৃষ্টির আড়ালে থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ইমাম মাহদি (আ.)-এর জীবন রক্ষার জন্য তাঁর জন্ম ও অস্তিত্ব সম্পর্কে কেবল অল্পসংখ্যক বিশ্বস্ত সাহাবিকে অবহিত করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে উসমান ইবনে সাঈদ অন্যতম।

তিনি বলেন, এমন এক সময়ে যখন শিয়াদের যেকোনো প্রকাশ্য কার্যক্রম কঠোরভাবে দমন করা হচ্ছিল, ইমাম হাসান আসকারি (আ.) ‘গোপন সংগ্রাম’-এর কৌশল অবলম্বন করে একদিকে শিয়া সমাজের সাংগঠনিক কাঠামো সংরক্ষণ করেন এবং অন্যদিকে দ্বাদশ ইমামের গায়েবতের যুগের সূচনার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র প্রস্তুত করেন।

তিনি বলেন, ইমাম হাসান আসকারি (আ.)-এর জন্মবার্ষিকী তাঁর এই দূরদর্শী কৌশল ও কর্মপদ্ধতি পুনরায় স্মরণ করার এবং তা থেকে শিক্ষা গ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha